বেগম সুফিয়া কামাল (জন্ম: ২০শে জুন, ১৯১১ - মৃত্যু: ২০শে নভেম্বর, ১৯৯৯) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা, নারীবাদী ও আধুনিক বাংলাদেশের নারী প্রগতি আন্দোলনের একজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব

জন্ম

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ আব্দুল বারী এবং মাতার নাম সৈয়দা সাবেরা খাতুন।[২]তাঁর বাবা কুমিল্লার বাসিন্দা ছিলেন। যে সময়ে সুফিয়া কামালের জন্ম তখন বাঙালি মুসলিম নারীদের গৃহবন্দী জীবন কাটাতে হত। স্কুল-কলেজে পড়ার কোন সুযোগ তাদের ছিলো না। পরিবারে বাংলা ভাষার প্রবেশ একরকম নিষিদ্ধ ছিল। সেই বিরুদ্ধ পরিবেশে সুফিয়া কামাল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পাননি। তিনি পারিবারিক নানা উত্থানপতনের মধ্যে স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন।

প্রাথমিক জীবন

১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে সুফিয়ার যখন সাত বছর বয়স তখন তাঁর বাবা সাধকদের অনুসরণে নিরুদ্দেশ যাত্রা করেন। ফলে তাকে তার মা সাবেরা খাতুন অনেকটা বাধ্য হয়ে বাবার বাড়িতে এসে আশ্রয় নেন। এই কারণে তাঁর শৈশব কেটেছিল নানার বাড়িতে।[২][৩]
যে পরিবারে সুফিয়া কামাল জন্মগ্রহণ করেন সেখানে নারীশিক্ষাকে প্রয়োজনীয় মনে করা হত না। তাঁর মাতৃকুল ছিল শায়েস্তাবাদের নবাব পরিবারের এবং সেই পরিবারের কথ্য ভাষা ছিল উর্দু। এই কারণে অন্দরমহলে মেয়েদের আরবি, ফারসি শিক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও বাংলা শেখানোর কোন ব্যবস্থা ছিল না। তিনি বাংলা শেখেন মূলত তাঁর মায়ের কাছে। নানাবাড়িতে তাঁর বড় মামার একটি বিরাট গ্রন্থাগার ছিল। মায়ের উৎসাহ ও সহায়তায় এ লাইব্রেরির বই পড়ার সুযোগ ঘটেছিল তাঁর।[২]
১৯২৪ সনে মাত্র ১৩ বছর বয়সে মামাতো ভাই সৈয়দ নেহাল হোসেনের সাথে সুফিয়ার বিয়ে দেওয়া হয়।[৪] নেহাল অপেক্ষাকৃত আধুনিকমনস্ক ছিলেন, তিনি সুফিয়া কামালকে সমাজসেবা ও সাহিত্যচর্চায় উৎসাহিত করেন। সাহিত্য ও সাময়িক পত্রিকার সঙ্গে সুফিয়ার যোগাযোগও ঘটিয়ে দেন তিনি।[৩] সুফিয়া সে সময়ের বাঙালি সাহিত্যিকদের লেখা পড়তে শুরু করেন। ১৯১৮ সালে কলকাতায় গিয়েছিলেন সুফিয়া কামাল। সেখানে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিলো। সুফিয়া কামালের শিশুমনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিলো বেগম রোকেয়ার কথা ও কাজ। সুফিয়া কামালের কাজেকর্মেও ছাপ পাওয়া যায় বেগম রোকেয়ার।[৫]

সাহিত্যচর্চার সূচনা এবং কলকাতার জীবন

সাহিত্যপাঠের পাশাপাশি সুফিয়া কামাল সাহিত্য রচনা শুরু করেন। ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' সেসময়ের প্রভাবশালী সাময়িকী সওগাতে প্রকাশিত হয়। ত্রিশের দশকে কলকাতায় অবস্থানকালে বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র যেমন রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, শরৎচন্দ্র প্রমুখের দেখা পান। মুসলিম নারীদের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার জন্য বেগম রোকেয়ার প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলামে’ রোকেয়ার সঙ্গে সুফিয়া কামালের পরিচয় হয়। বেগম রোকেয়ার চিন্তাধারা ও প্রতিজ্ঞা তাঁর মধ্যেও সঞ্চারিত হয়, যা তাঁর জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।
নিজের সাহিত্য প্রয়াসের সূচনা প্রসঙ্গে তিনি এ ভাবে স্মৃতিচারণ করেছেন, “‘এমনি কোনো বর্ষণমুখর দিনে মুসলমান সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত কাজী নজরুল ইসলামের লেখা `হেনা` পড়ছিলাম বানান করে। প্রেম, বিরহ, মিলন এসবের মানে কি তখন বুঝি? তবু যে কী ভালো, কী ব্যথা লেগেছিল তা প্রকাশের ভাষা কি আজ আর আছে? গদ্য লেখার সেই নেশা। এরপর প্রবাসী পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা পড়তে পড়তে অদ্ভুত এক মোহগ্রস্ত ভাব এসে মনকে যে কোন্‌ অজানা রাজ্যে নিয়ে যেতো। এরপর দেখতাম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, বেগম সারা তাইফুর লিখছেন। কবিতা লিখছেন বেগম মোতাহেরা বানু। মনে হলো ওরা লিখছেন আমিও কি লিখতে পারি না? শুরু হলো লেখা লেখা খেলা। কী গোপনে, কত কুণ্ঠায়, ভীষণ লজ্জার সেই হিজিবিজি লেখা ছড়া, গল্প। কিন্তু কোনোটাই কি মনের মতো হয়! কেউ জানবে, কেউ দেখে ফেলবে বলে ভয়ে ভাবনায় সে লেখা কত লুকিয়ে রেখে আবার দেখে দেখে নিজেই শরমে সংকুচিত হয়ে উঠি।”[৬]
সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচর্চা চলতে থাকে। ১৯৩৭ সালে তাঁর গল্পের সংকলন কেয়ার কাঁটা প্রকাশিত হয়। ১৯৩৮সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাঁঝের মায়ার মুখবন্ধ লেখেন কাজী নজরুল ইসলাম। বইটি বিদগ্ধজনের প্রশংসা কুড়ায় যাদের মাঝে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৯৩২ সালে তাঁর স্বামীর আকস্মিক মৃত্যু তাঁকে আর্থিক সমস্যায় নিপতিত করে। তিনি কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ১৯৪২ সাল পর্যন্ত এ পেশায় নিয়োজিত থাকেন। এর মাঝে ১৯৩৯ সালে কামালউদ্দিন আহমেদের সাথে তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে হয়। দেশবিভাগের পূর্বে কিছু কাল তিনি নারীদের জন্য প্রকাশিত সাময়িকী বেগমের সম্পাদক ছিলেন।

ঢাকার জীবন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড

১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি নিজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এতে অংশ নেওয়ার জন্য নারীদের উদবুদ্ধ করেন। ১৯৫৬ সালে শিশুদের সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরপ্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবী জানান। ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন। এই বছরে তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন, পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ইতঃপূর্বে প্রদত্ত তমঘা-ই-ইমতিয়াজ পদক বর্জন করেন। ১৯৭০ সালে মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বাসভবন সংলগ্ন গোটা ধানমন্ডি এলাকা পাকিস্থানী বাহিনীর নিরাপত্তা হেফাজতে ছিল, আর ঐ সময় তিনি ধানমন্ডিতে নিজ বাসভবনে সপরিবারে নিরাপদে অবস্থান করেন ।[৭]
স্বাধীন বাংলাদেশে নারীজাগরণ আর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা রেখে গেছেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শরিক হয়েছেন, কার্ফ্যু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেছেন। মুক্তবুদ্ধির পক্ষে এবং সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদেরবিপক্ষে আমৃত্যু তিনি সংগ্রাম করেছেন। প্রতিটি প্রগতিশীল আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।

মৃত্যু

১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর সুফিয়া কামাল মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। বাংলাদেশী নারীদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই সম্মান লাভ করেন। প্রতি বছর এই দিনটিতে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ করা হয়।[৮][৯]

রচনা

কাব্যগ্রন্থ

  • সাঁঝের মায়া (১৯৩৮)
  • মায়া কাজল (১৯৫১)
  • মন ও জীবন (১৯৫৭)
  • প্রশস্তি ও প্রার্থনা (১৯৫৮)
  • উদাত্ত পৃথিবী (১৯৬৪)
  • দিওয়ান (১৯৬৬)
  • অভিযাত্রিক (১৯৬৯)
  • মৃত্তিকার ঘ্রাণ (১৯৭০)
  • মোর জাদুদের সমাধি পরে (১৯৭২)

গল্প

  • কেয়ার কাঁটা (১৯৩৭)

ভ্রমনকাহিনী

  • সোভিয়েতে দিনগুলি (১৯৬৮)

স্মৃতিকথা

  • একাত্তরের ডায়েরি (১৯৮৯)

আত্মজীবনীমূলক রচনা

  • একালে আমাদের কাল (১৯৮৮)

শিশুতোষ

  • ইতল বিতল (১৯৬৫)
  • নওল কিশোরের দরবারে (১৯৮১)

অনুবাদ

  • সাঁঝের মায়া - বলশেভনী সুমের্কী (রুশ) (১৯৮৪)


হিজলা বাংলাদেশের বরিশাল জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলা ৬ টি ইউনিয়ন নিয়ে ১৯১৭ সালের ১৫ জুলাই প্রতিষ্ঠা হয়। ঐ সালের ২১ সেপ্টেম্বর গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পর ১৯১৮ সালের ১ জানুয়ারী থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হিজলা থানার কার্যক্রম চালু হয়।
অবস্থান
দেশের মানচিত্রে বরিশালের উত্তরে ঢাকা বিভাগের শরীয়তপুর জেলার কোলঘেসে অবস্থিত হিজলা উপজেলা। উত্তরে শরীয়তপুর জেলার ঘোষাইরহাট  উপজেলা, উত্তরপূর্বে চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলা, দক্ষিনে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা পূর্বে নোয়াখালী জেলার রায়পুর উপজেলা এবং পশ্চিমে মুলাদী উপজেলা। জেলা সদর হতে দূরত্ব ৫০ কিঃ মিঃ। এটি নদী বেষ্টিত একটি এলাকা।
প্রশাসনিক এলাকা
হিজলা উপজেলার আয়তন ৫১৫.৩৬ বর্গ কিঃমিঃ । হিজলা উপজেলা ৬টি ইউনিয়ন, ১২১টি গ্রাম, ১২১ মৌজা নিয়ে গঠিত।[২] এই উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন হচ্ছে -

বড়জালিয়া ইউনিয়ন
গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়ন
হরিনাথপুর ইউনিয়ন
মেমানিয়া ইউনিয়ন
ধুলখোলা ইউনিয়ন এবং
হিজলাগৌরবদী ইউনিয়ন।

ইতিহাস
বদরটুনী থানা হিজলের প্রাচুর্যতায় সমৃদ্ধ হিজলা ইউনিয়নের স্থানান্তরিত হয় হিজলা নামে বর্তমান হিজলা থানা স্থাপিত হয়। হিজলা পুর্ব বাংলা আধিপত্য বিস্তারের সময় বাকেরগঞ্জ জেলার একটি ক্ষুদ্র হিন্দু রাজ শক্তির উদ্ভব বা পত্তন ঘটে। এই রাজ্যের নাম চন্দ্রদ্বীপ বাকলা। ড: কানুনগোর মতানুসারে সোনার গায়ের দনুজ রায় মুসলিম বিজয়দীদের বিতবড়িত হওয়ার পর এই রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু এ মতের পক্ষে প্রমান পাওয়া যায়না। এই বংশের সামান্য যাহা ছিল, উন্মাদ রাজা শিব্রাইন পুড়িয়ে ফেলেন। তাই এ পরিবারের ঐতিহ্য, স্থানীয় জনশ্রুতি কিছু মুদ্রা এবং পরবর্তী কালের নথীপত্রের মাধ্যমে এই পরিবার সম্পর্কে কিছুটা ধরনা করা যায়। ইদিলপুরের ঘটক সম্প্রদায়ের দলিলপত্র অনুযায়ি এই পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন দনুজ রায় কায়স্থ । স্থানীয় জনশ্রুতি এবং প্রাপ্ত নথিপত্রের উপর ভিত্তি করে চন্দ্রদ্বীপ পরিবারের বংশ বৃত্তান্ত তৈরি করা হয়েছে। দনুজ মর্দন রায়ের উত্তারাধিকারী ছিলেন রামবল্লভ, হরিবল্লভ এবং কৃষ্ণবল্লভ। কৃষ্ণ বল্লবের কোন পুত্র সন্তান না থাকায় তার কন্যা কমলাদেবী উত্তারধীকারী হন। বলবর্ধন বসুর সঙ্গে কমলা দেবীর বিবাহ হয়। কমলা দেবীর পূত্র শিবানন্দ ( পরমানন্দরায়) ছিরণ তাহার উত্তারাধীকারী এবং চন্দ্রদ্বীপরে বসু পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। পরমানন্দের উত্তারাধীকারী ছিলেন জগদা নন্দ, কন্দর্প নারায়ন এবং রাম চন্দ্র। মেহেন্দিগঞ্জে এই পরিবারের লোকেরা প্রথমে বসতি স্থাপন করেন। এইচ. লকম্যানের মতানুযায়ী চন্দ্রদ্বীপ বাকলা প্রায় ১৪৮৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত স্বাধীন ছিল। মুসলিম সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে (১৪১৩-১৫১৯ খ্রিষ্টাব্দে) এ রাজ্য মুসলিম সামাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। বস্তুত: মুঘলদের দ্বারা বঙ্গ বিজয়ের পর থেকেই চন্দ্রদ্বীপ বাকলার ইতিহাস আরম্ভ হয়েছে। আবুল ফজলাই প্রথম ঐতিহাসিক যিনি বাকলা সর্ম্পকিত কিছু ঘটনা উল্লেখ করেছেন। ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে স্টেটের রাজস্ব তালিকায় বাকলা একটি সরকার ছিল এবং বাকলা, শ্রীরামপুর, শাহবাজপুর ও ইদিলপুর এই চারটি পরগনা এর অন্তর্ভূক্ত ছিল। ১৮০৬ খ্রিষ্টাব্দে গৌরনদী এবং মাদারীপুরের পূর্বাঞ্চল ঢাকা জেলা থেকে বাকেরগঞ্জের সঙ্গে সংযোজিত করা হয়। ১৮১৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ইদিলপুর পরগনা ঢাকা জেলার একটি অংশ হিসাবে পরিগনিত ছিল। ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিন শাহবাজপুর মহকুমা (ভোলা) এ জেলার আদীবাসিদের অনুরোধে নোয়াখালী জেলা থেকে নিয়ে বাকেরগঞ্জ এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এই সংযোজনের ফলে যাতে এই জেলার আরো বিস্তৃত হয়, সে জন্য পালং (বর্তমান সখিপুর/ভেদরগঞ্জ) তথা শরীয়তপুর ও উত্তরাঞ্চলের কোটালী পাড়া থানা এবং মাদারীপুর মহকুমা ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ফরিদপুর জেলায় অন্তভূক্ত করা হয়। ১৭৯৭ খ্রিষ্টাব্দে ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দের রেগুলেশন নম্বর ৯ (পরবর্তীতে বাতিলকৃত) এর ৪০ নম্বর ধারা অনুসারে, বাকেরগঞ্জকে ঢাকার কোর্ট অব সার্কিটের একটি ষ্টেশন হিসাব নিদিষ্ট করা হয়। ১৭৯৭ খ্রিস্টাব্দের রেগুলেশন নং ৭ অনুসারে কমিশনারের দফতর উঠে যায়। এর ফলে ১৭৯৭ খ্রিষ্টাব্দে উক্ত রেগুলেশন বলে মেজিস্ট্রেট শাষিত বাকেরগঞ্জ একটি জেলা হিসাবে পরিগনিত হয়। ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে ২৬শে সেপ্টেম্বর তারিখে বাকেরগঞ্জ জেলায় কালেক্টর এর একখানা চিঠিতে দেখা যায় যে জর্জ ও মেজিষ্ট্রেটের শাষনাধীন এ জেলায় ১০টি সার্কেল থানা ছিল। ১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দে ডব্লিউ ডব্লিউ লহান্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে এ জেলায় গোড়ার দিকে ০৫টি মহকুমা ছিল। যথা ১।সদর ২। দক্ষিন শাহবাজপুর ৩। মাদারীপুর ৪। পিরোজপুর ও ৫। পটুয়াখালী। ১৮০১ খ্রিস্টাব্দে জেলার সদর মহকুমা গঠন করা হয়। ১৮৭০-১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে সদর মহকুমার আটটি ম্যাজিষ্ট্রেট ও রাজস্ব আদালত ছিল। সদর মহকুমার বরিশাল, নলছিটি, বাকেরগঞ্জ, ঝালকাঠি এবং মেহেন্দিগঞ্জ নামে পাচটি পুলিশি সার্কেল ছিল। মেহেন্দিগঞ্জ এর সার্কেল ছিল মুলত: ইদিলপুর, উত্তর শাহবাজপুর, শ্রীরামপুর তথা বাকলা বাদে বাকেরগঞ্জ জেলার অন্যতম চারটি পরগনার মুল তিনটি পরগনা সহ জাপুর, কাদিরাবাদ, মাইজদি, মুলাদী (জালালপুর ও জাহাপুর পরগনা) থানার কিয়দংশের অন্তর্গত। ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের জে.সি জাকের শিক্ষিত জেলা গেজেট বারের বিবরন অনুযায়ি ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে সদর মহকুমা সদর উত্তর সদর দক্ষিন নামে দুইটি মহকুমার বিভক্ত ছিল তখন থেকে ১।গৌরনদী, ২।বাবুগঞ্জ, ৩।উজিরপুর, ৪।মেহেন্দিগঞ্জ, ৫।মুলাদী ও ৬।হিজলা থানার উদ্ভব বা উৎপত্তি বা গোড়াপত্তনের প্রশাসনিক ইতিহাস উদঘাটন হয়। ১৯৬১ সন থেকে লোক গননায় সদর উত্তর মহকুমার আয়তন ছিল ৬৮১ বর্গমাইল ও জনসংখ্যা ছিল ৮,১০,৫৯১ জন। ১৯৭৪ সন গননায় আয়তন ৫২২ বর্গমাইল ও জনসংখ্যা ৭,১৮,৭৭৯ জন, তাহার মানি এলাকা কেটেছে। ইতোপূর্বে মেহেন্দিগঞ্জ সার্কেল থানায় একটি মুনসেফ কোর্ট ছিল, পাতারহাটে একখানা রেজিষ্ট্রি অফিস ছিল। শ্রীরামপুর ছিল মেহেন্দিগঞ্জ থানার বহি: ষ্টেষন (ঙটঞ চঙঝঞ ঙঋ চঙখওঈঊ). সেই শ্রীরামপুর আউট পোষ্ট কে থানায় রুপান্তর বা উন্নতি করা হয় বদরটুনি থানা নামে এবং শ্রীরামপুর পরগনার এককালীন আউট পোষ্ট ছিল। অন্যান্য থানার মত নদীর পাড়ে তথা গঙ্গা ও মেঘনার সঙ্গম স্থলে। ১৮৬৯ সন এই পরগনায় একটি বড় ধাক্কা সংগঠিত হয়। এখানে ৫২টি ষ্টেট ছিল সেখান থেকে সঙ্গমসই বদরটুনি থানা হিসাবে কার্যরত অবস্থায় জলদস্যুদের উৎপাত থেকে রক্ষার্থে হিজলা থানার এককালীন হিজলা ইউনিয়নে, বর্তমানে হিজলা-গৌরবদী দুইটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত একটি ইউনিয়নে স্থানান্তরিত হয়ে হিজলা থানা নামে অবিহিত হয় ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দের পুর্বেই। মেহেন্দিগঞ্জ থানাকে ধুলখোলা ইডনিয়ন সহ বাবুগঞ্জ রাজস্ব সার্কেল ও হিজলার প্রাচীনতম পি এন হাইস্কুল খ্যাত আলীগঞ্জে স্থানান্ত—িত করার সিদান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় মেহেন্দিগঞ্জ বিভক্ত হয়ে হিজলা থানার উদ্ভব ঘটে, ইদলপুর মানে আদিল ন্যায় শ্রীরামপুর এবং ৩৬০ ঘর সম্ভ্রান্ত জমিদারদের আবাসস্থল। মোঘলদের দুদর্ষ সেনাপতি শাহবাজখান, জিনিফিরিঙ্গি জলদস্যুদের দমন করতে নৌ-ঘাট স্থাপন পূর্বক শাহবাজপুর পরগনার পতান ঘটিয়ে ছিলেন। সেই শাহবাজপুর প্রাচীন গবিন্দপুর কালিগঞ্জ বন্দর, চাদরায়-কেদার রায় এর প্রতিষ্টিত বাসুদেব মন্দির খ্যাত। পঞ্চম জর্জ এর স্বারক অনুদানে রায় স্থাপিত উত্তর শাহবাজপুর জর্জ ইন্সটিটিউশন খ্যাত গবিন্দপুর ১৯৯২-১৯৯৩ সনে পুনরায় মেহেন্দিগঞ্জ কোর্টে দেয়া হয় (যাহার প্রধান হোতা সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসেম ও সাবেক এম পি মোশাররফ হোসেন মংগু) খালিশপুর, চরকিল্লা, উমেদপুর, গঙ্গাপুর, মল্লিকপুর, সৈয়দখালী, ঐতিহাসিক চর বিশকাঠালী, গংগাপুর, হরিনাথপুর, (তহশীল) কাউরিয়া বন্দর, ( তহশীল) রামনগর, মাউলতলা, গুয়াবাড়িয়া, মহিষখোলা, চিড়াখোলা, ধুলখোলা, কানাইগঞ্জ, নরসিংহপুর এবং হিজলা শ্যামেরহাট, প্রফুল্লগঞ্জ, বাতুল্লাতলি, কালিগঞ্জ, শ্রীরামপুর, ষ্টিমারষ্টেশন ও থানা খ্যাত সমুদ্বয় এলাকা নিয়ে (যাহার উত্তরে শরিয়তপুর হাটুরিয়া, মেঘনা নদী এবং প্রাচীন ত্রিপুরা বর্তমানে কুমিল্লার অংশ চাদপুর, লক্ষীপুর, নোয়াখালীর লক্ষীপুর জেলা, পশ্চিমে মুলাদী, দক্ষিনে মেহেন্দিগঞ্জ, পূর্বে-মেঘনা, দক্ষিনে শাহবাজপুর (ভোলা) ও মেহেন্দিগঞ্জ থানা)। হিজলার উত্তর শাহবাজপুর এলাকা ছিল উৎকৃষ্ট সুপারীর জন্য বিখ্যাত। এখান থেকে পাতারহাট হয়ে সুপারী চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কলকাতা ও রেংগুনে যেত। জীবিকার দিক দিয়ে কৃষি ও গৃহস্থলি মৎস জীবিকার প্রাধান্য ছিল। যেমন থানা ওয়ারী, জেলে পাড়ার দিক দিয়ে হিজলা ছিল-৩০ , মেহেন্দিগঞ্জ ছিল-২০, নদীর দৈঘ্য মাইল ছিল হিজলা-১৫, ছবিপুর-১০, নয়াভাঙ্গনী-১৫, জয়ন্তী-১০ , মেঘনা-৯৫, তেতুলিয়া-৫০ বর্গমাইল। ১৯৬৯ সনে উৎপাদিত মোট চালের পরিমান (হাজার মন) হিজলা যথাক্রমে আউশ-২৩৭, আমন বপন করা বীজ থেকে ১০০০৫ রোপিত চারা থেকে-৪৪৮ বোরো ও ইরি-০.১ অন্যদিকে যথাক্রমে ১৬৫৭৩.২, ৮১৩, ২০, ১৫৬ হাজার মন মোট সরবরাহ হিজলা-৭৪৯ হাজার মন, প্রয়োজন-৭৪১, বারতী বা উদ্বৃত্ত ছিল আট হাজার মন। অন্যদিকে মেহেন্দিগঞ্জে যথাক্রমে সরবরাহ-৯৭২, প্রয়োজন-১০৮৬, ঘাটতি-১১৪ হাজার মন। নৌ-যোগাযোগ ছিল ষ্টীমার সার্ভিস , বরিশাল-নারায়নগঞ্জ-ঢাকা সার্ভিস সপ্তাহে তিনদিন চলাচল করত। এই সার্ভিস চাদপুর এবং নারায়নগঞ্জ হয়ে বরিশালকে ঢাকার সাথে সংযুক্ত করেছিল। পথিমধ্যে উল্লেখ্য যোগ্য ষ্টেশনছিল-শ্রীরামপুর-বদরটুনি, হিজলা। নদীবহুল জেলার অধীন থানা হওয়ায় নৌকাই ছিল যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। বাহন ছিল এক মাইল, মাঝি, পাটের নৌকা, বাছার নাও, গোলের নাও, ডোংগা নৌকা, গয়না নৌকা, টাবইয়া নৌকা, কাথানী নৌকা, পানসী। ১৯১৮ সনে তেতুলিয়া নদীতে, শাহবাজপুর ফেরিসার্ভিস ছিল। হিজলায় কাহালিরহাট, বদরটুনী ডাকঘরের পর ওসমানমঞ্জিল প্রথম সাবপোষ্ট অফিস, হিজলায় পাবলিক কল অফিস যাহার মুল একচেঞ্জ বরিশাল ছিল। হিজলায় তাতের সংখ্যা-১৪৬ (১৯৬৬-১৯৬৮), শ্রমিক সংখ্যা -৪৫৬, থানার প্রথম হাট বাজার ছিল হিজলা, যাহা বর্তমানে বড়জালিয়া ইউনিয়নের অধীন, চাল ,পাট, ডাল, সরিষার তৈল, মরিচ, নারিকেল এবং হোগলা পাতা প্রধান প্রধান পন্য। ১৯৭৬ সন পর্যন্ত একমাত্র ব্যাংক ছিল পুবালী ব্যাংক লিমিটেড। হিজলায় ভারপ্রাপ্ত এল এম এফ ডাক্তার এর অধীন হাসপাতাল ও ডিসপেনসারী খোলা হয়-১৩/১০/১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে। এজি হাসপাতাল থেকে পল্লী ডিসপেনসারী পরিবর্তন শ্রীরামপুর জে:প:। ২৫/০৪/১৮৯৪ তারিখে এল এম এফ ডাক্তারের হিজলার প্রতিষ্ঠানিক চিকিৎসা শুরু। যাহা লতা দাতব্য চিকিৎসালয়ের চার বছর পর । পাতারহাটে ২৪/১২/১৯২০ সনে খুলেছে । রাজস্বের ক্ষেত্রে বাকেরগঞ্জ জেলা এলাকা তিনটি সরকার এলাকায় অন্তভুক্তি হয়, পশ্চিমাংশ খলীফার তার্বাজ, মধ্য অংশ বাকলা এবং পুবাংশ ফাতেহাবাদ সরকার অন্তভুক্ত। ১৯৮৩ সালের ১৪ ই সেপ্টেম্বর হিজলা থানাকে উপজেলা ঘোষনা ও কার্যকর করা হয়। বর্তমানে হিজলা উপজেলার আয়তন ৫৩৭.১৬ বর্গ কিলোমিটার ।
জনসংখ্যার উপাত্ত
হিজলা উপজেলার মোট জনসংখ্যা ১,৮৭,৩২৯ জন (প্রায়)। এদের মধ্যে পুরুষ ৯৩,০৪১ জন (প্রায়)। নারী রয়েছে (প্রায়) ৯৪,২৮৮ জন । মোট ভোটার সংখ্যা ৮৯,৬৫২ জন । পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৪৪,৯৭২ জন । মহিলা ভোটার সংখ্যা ৪৪,৬৮০ জন । বাৎসরিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩০% ।
শিক্ষা
৬৪% (পুরুষ-৩৬%, মহিলা-২৮%)
কৃতী ব্যক্তিত্ব
১.মৃত মেজর আফছার উদ্দিন, শ্রীপুর ২.আব্দুল জব্বার মেহমান, হরিনাথপুর ৩. ব্রিগেডিয়ার মোঃ শাখাওয়াত হোসেন, গুয়াবাড়িয়া (সাবেক নির্বাচন কমিশনার) ৪. আলহাজ্ব মোঃ আঃ কাদের ফারুক, হরিনাথপুর (বিশিষ্ট শিল্পপতি) ৫.মৃত এ কে এম নুরুল করিম (খায়ের মাস্টার), হরিনাথপুর (সাবেক সংসদ সদস্য)

মুক্তিযুদ্ধকালে বরিশালে অবস্থানরত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ঘাতক সেনা কর্মকর্তাগণ


মুক্তিযুদ্ধকালে বরিশালে অবস্থানরত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ঘাতক সেনা কর্মকর্তাগণের তালিকা এরূপ: ১. কর্নেল আতিক মালিক, বরিশাল, পিরোজপুর; ২. মেজর নাদের পারভেরজ, পটুয়াখালী; ৩. ক্যাপ্টেন শওকাত, বরগুনা; ৪. ক্যাপ্টেন এজাজ, পিরোজপুর; ৫. মেজর ইয়াহিয়া, বরিশাল; ৬. ক্যাপ্টেন হাবিব শাহ, বরিশাল; ৭. ক্যাপ্টেন আহসান, বরিশাল; ৮. ক্যাপ্টেন মালেক, বরিশাল; ৯. ক্যাপ্টেন কায়ানী, ভোলা; ১০. ক্যাপ্টেন ইয়াসিন, পটুয়াখালী; ও ১১. মেজর তারেক মোহাম্মদ, বরিশাল।

তথ্যসূত্র: ১। সিরাজ উদ্দীন আহমেদ। বরিশাল বিভাগের ইতিহাস (দ্বিতীয় খন্ড)। ভাস্কর প্রকাশনী, ঢাকা। ২০১৫।

মুলাদী উপজেলার শহীদ মুক্তযোদ্ধাগণ


মুলাদী উপজেলার শহীদ মুক্তযোদ্ধাগণের একটি আপাত অসম্পূর্ণ তালিকা নি¤œরূপ- ১. শিল্পী আলতাফ মাহমুদ, পিতা নাজেম মিয়া, পাতার চর; ঢাকায় শহীদ। ২. শাহজাহান, কাজিরচর; ১৭ সেপ্টেম্বর নন্দীরবাজারে নিহত। ৩. আমির হোসেন, কাজিরচর; ১৭ সেপ্টেম্বর নন্দীরবাজারে নিহত। ৪. হাবিব- কাজিরচর, ১৭ সেপ্টেম্বর নন্দীরবাজারে নিহত। ৫. আবদুল শুকুর সরদার চর লক্ষ্মীপুর, খুলনা রেডিও অফিস আক্রমণে শহীদ। ৬. ইপিআর হাবিলদার হাফিজউদ্দিন সিকদার, চরলক্ষ্মীপুর যুদ্ধে শহীদ। ৭. আবুদল জলিল সরদার, বালিয়াতলী; পাতারহাট যুদ্ধে শহীদ। ৮. আবদুল জলিল সরদার, বালিয়াতলী; পাতারহাট যুদ্ধে শহীদ। ৯. জলিল ভুঁইয়া, আলিমাবাদ। ১০. দেলওয়ার হোসেন, খালাসীরচর। ১১. রশীদ হাওলাদার, গুদিঘাটা। ১২. আলমগীর সরদার, পাতারচর। ১৩. জয়নাল আবেদীন মুন্সী, কাজিরচর। ১৪. কবিরউদ্দিন, গুদিঘাটা। ১৫. লালু, কাজিরচর। ১৬. চুন্নু, কাজিরচর। ১৭. মতি মাস্টার।

তথ্যসূত্র: ১। সিরাজ উদ্দীন আহমেদ। বরিশাল বিভাগের ইতিহাস (দ্বিতীয় খন্ড)। ভাস্কর প্রকাশনী, ঢাকা। ২০১৫।

হিজলা উপজেলা


১। বড়জালিয়া ইউনিয়ন: ১. বাহেরচর, ২. বড় জালিয়া, ৩. চর বাউসিয়ার ঘোড়দৌড়, ৪. ছোট বাহেরচর, ৫. খুনা গোবিন্দপুর, ৬. লক্ষ্মীপুর বাহেরচর, ৭. শ্রীপুর।



২। ধুলখোলা ইউনিয়ন: ১. আশিঘর, ২. বাসুপট্টি, ৩. বাথুয়া, ৪. ধুলখোলার মুখের চর, ৫. ধুলখোলা, ৬. হোগলতুড়ি, ৭. কুঞ্জপট্টি, ৮. মাতিয়ালা, ৯. পালপাড়া।



৩। গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়ন: ১. বাজিতখান, ২. ঘোসাইরচর, ৩. গুয়াবাড়িয়া, ৪. কালিকাপুর, ৫. কাউরিয়া, ৬. কোলচরি হরিনাথপুর, ৭. কোরালিয়া, ৮. লেমুয়া, ৯. মাসকাটা, ১০. মৌলতলা, ১১. নরসিংহপুর, ১২. পশ্চিম কোরালিয়া, ১৩. পত্তনিডাঙ্গার চর, ১৪. রঙ্গা, ১৫. উত্তর চর নরসিংহপুর।



৪। হরিনাথপুর ইউনিয়ন: ১. আবুপুর শ্রীরামপুর, ২. আসলি আবুপুর, ৩. বদরটুনি, ৪. বদরপুর, ৫. চর আবুপুর, ৬. চর ছয়গাঁও, ৭. হরিনাথপুর, ৮. কুলারগাঁও, ৯. কুলচরী পাতারচর, ১০. লামচরি টুমচর, ১১. মহিষখোলা, ১২. নাছকাঠি, ১৩. পশ্চিম গঙ্গাপুর, ১৪. পূর্বকান্দি, ১৫. পূর্ব কৃষ্ণপুর, ১৬. শৌলাকুরি, ১৭. টুমচর।



৫। হিজলা গৌরবদী ইউনিয়ন: ১. আবদা, ২. আমসর, ৩. আনালি, ৪. আরাকুল, ৫. বিশোর, ৬. চর বিজালী, ৭. চর বিষকাঁটালী, ৮. চর বিশোর, ৯. চর হিজলা, ১০. চর কিল্লার পূর্বচর, ১১. চরকিল্লা, ১২. চর কুসারিয়া, ১৩. চর জানপুর, ১৪. চারিগাঁও, ১৫. দক্ষিণচর দেবুয়া, ১৬. গঙ্গাচরণ, ১৭. হারিদাসপুর, ১৮. হিজলা, ১৯. কাকুরিয়া, ২০. কানিবগা, ২১. করপাড়া, ২২. কেওরিয়া, ২৩. খাইলা, ২৪. মান্দ্রাতর কুশরিয়া, ২৫. শঙ্করপাশা।



৬। মেমানিয়া ইউনিয়ন: ১. বাদুরি, ২. বড় লক্ষ্মীপুর, ৩. বাউসিয়া, ৪. ভারুয়া, ৫. চর মেমানিয়া, ৬. চর দুর্গাপুর, ৭. ছোট লক্ষ্মীপুর, ৮. চিড়াখোলা, ৯. দেবুয়া, ১০. ডিক্রিচর, ১১. গঙ্গাপুর, ১২. ইন্দুরিয়ার মুখেরচর, ১৩. খাগের চর, ১৪. মেমানিয়া, ১৫. পশ্চিম দায়া, ১৬. পশ্চিম গোবিন্দপুর, ১৭. পূর্ব খাগের চর, ১৮. সোনাতলা, ১৯. টুম লক্ষ্মীপুর।


মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা


মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার মহল্লাসমূহ: ১. চরহোগলা, ২. সোনামুখী, ৩. অম্বিকাপুর, ৪. দুর্গাপুর, ৫. কালিকাপুর, ৬. খারকি, ৭. ভুটালক্ষ্মীপুর, ৮. চুনারচর, ৯. গোবিন্দপুর।



১। আলিমাবাদ ইউনিয়ন: ১. আলিমাবাদ, ২. বাহিরচর, ৩. চরবগী, ৪. চর ডাইয়া, ৫. চর মহিষা, ৬. চর মিতুয়া, ৭. পাতাবুনিয়া, ৮. চর নন্দনপুর, ৯. চর ফেনুয়া, ১০. গাগারিয়া, ১১. ইলিশা কোরালিয়া, ১২. লরিপুর, ১৩. মহিষা, ১৪. মাঝ কাজীরচর, ১৫. মিয়ারচর, ১৬. সলিমাবাদ, ১৭. শ্রীপুর।



২। আন্ধারমানিক ইউনিয়ন: ১. আন্ধারমানিক, ২. আজিমপুর, ৩. রাঙ্গাভাঙ্গার লাগাচর, ৪. কাটাভাঙ্গা।



৩। ভাসানচর ইউনিয়ন: ১. চর আমানউল্লাহ, ২. ছয়ম তক্তা, ৩. দশহাজার বিঘা, ৫. খালিসার উত্তরপাড়া, ৬. আকনকান্দা, ৭. রাঘুগা, ৮. মাঝগ্রাম, ৯. খালিসার দক্ষিণ পাড়া, ১০. নামাপাড়া, ১১. কাদামাখা, ১২. মাদারবুনিয়া, ১৩. হিসামদি, ১৪. ঝর্ণাভাঙ্গা, ১৫. খন্ড দশহাজার বিঘা, ১৬. খন্ড বাগাজা, ১৭. খন্ড ভাষাণচর, ১৮. সাত হাজার বিঘা, ১৯. টুমচর, ২০. হাজীকান্দা।



৪। বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়ন: ১. বিদ্যানন্দপুর, ২. চর খাজুরিয়া, ৩. চর মাধবরায়, ৪. রতনপুর, ৫. পূর্ব রতনপুর, ৬. ছিলমারি।



৫। চাঁদপুর ইউনিয়ন: ১. চাঁদপুর, ২. চর খাগকাটা, ৩. দেশ খাগকাটা, ৪. জোরখালি, ৫. কাশীপুর, ৬. খাগাতা দক্ষিণ চর, ৭. খন্তাখালি, ৮. কুলচরি শ্যামরায়, ৯. কুলচরি, ১০. শ্যামরায়চর, ১১. নয়নপুর, ১২. শুকনাকাঠি, ১৩. শ্যামপুর, ১৪. খাগাতা।



৬। গোবিন্দপুর ইউনিয়ন: ১. গোবিন্দপুর, ২. তেঁতুলিয়া।



৭। চর এক্কারিয়া ইউনিয়ন: ১. চর হাড়িয়া, ২. চরলতা, ৩. চর পোলতাতলী, ৪. দরবেশকান্দি, ৫. এক্কারিয়ারচর, ৬. চর এক্কারিয়া, ৭. চুনারচর, ৮. নলবুনিয়া, ৯. গঙ্গাচরণ, ১০. কাচিয়া, ১১. কাশিমা, ১২. কোলচরী, ১৩. কোলচর, ১৪. লস্করপুর, ১৫. মধ্যকান্দি, ১৬. পশ্চিম হারনি, ১৭. ইয়ারবেগ, ১৮. পূর্বকান্দি, ১৯. পূর্বের চর, ২০. রামনাথপুর, ২১. তারিলসা, ২২. উত্তরচর, ২৩. উত্তর দাদপুর, ২৪. উত্তর দাদপুর চর, ২৫. পূর্বকান্দি পূর্বপাড়া



৮। চর গোপালপুর ইউনিয়ন: ১. গাজীরচর, ২. জালিয়ার চর, ৩. কাজীরচর, ৪. মিয়ার চর, ৫. তালুকদারের চর।



৯। দারিচর খাজুরিয়া ইউনিয়ন: ১. চর বৌডোবা, ২. দারিচর খাজুরিয়া।



১০। জাঙ্গালিয়া ইউনয়ন: ১. আচুরচর, ২. চর ভোলানাথ, ৩. চর শেফালী, ৪. জাঙ্গালিয়া, ৫. উত্তর চর পশ্চিম, ৬. লাঙ্গুটিয়া, ৭. চর পশ্চিম, ৮. জানুরচর, ৯. পশ্চিম কেউটিয়া, ১০. সিন্নির চর ।



১১। লতা ইউনিয়ন: ১. আসলি সন্তোষপুর, ২. চর সন্তোষপুর, ৩. চর সোনাপুর, ৪. চর উদয়পুর, ৫. চানখোলা, ৬. গৌরীপুর, ৭. ঘোড়াঘাট, ৮. হরিয়া গোসাইদিয়া, ৯. কাদিরাবাদ, ১০. কসবা, ১১. সাইলা, ১২. তর সোনাপুর, ১৩. উদয়পুর।



১২। মেহেন্দিগঞ্জ ইউনিয়ন: ১. বাহাদুরপুর, ২. বাজিতখান, ৩. চর হোগলা, ৪. ধুলিয়া মধ্যের চর, ৫. রুকন্দি, ৬. সাদাকপুর, ৭. উত্তরপাড়া।



১৩। উলানিয়া ইউনিয়ন: ১. আশা. ২. বালিয়া, ৩. হাসানপুর, ৪. জাদুয়া, ৫. লক্ষ্মীপুর, ৬. নয়াখালী, ৭. পানবাড়িয়া, ৮. পূর্ব হারনি, ৯. পূর্ব সাতওয়া, ১০. রাজাপুর, ১১. শৌলদি, ১২. সুলতানী সন্তোষপুর, ১৩. উলানিয়া।


বাবুগঞ্জ উপজেলা


১। জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন [পূর্বনাম আগরপুর]:১. আগরপুর, ২. ব্রাহ্মণদিয়া, ৩. চরআলগী, ৪. চর ফতেহপুর, ৫. চর হোগলাপটিয়া, ৬. চর জাহাপুর, ৭. চর কপালবেড়া (ইসলামপুর), ৮. চরমৈষা, ৯. চর সিলান্দা, ১০. চর ঠাকুর মালিক, ১১. দক্ষিণ চর ডাকাতিয়া, ১২. ঘোষকাঠি রমজানকাঠি, ১৩. লামচর ঘোষকাঠি, ১৪. নতুন চরজাহাপুর, ১৫. তিলেরচর, ১৬. উত্তর চর ভূতেরদিয়া।



২। চাঁদপাশা ইউনিয়ন: ১. আরজি কালিকাপুর, ২. অর্জুন মাঝি, ৩. বকশিচর, ৪. বাঁশগাড়ি, ৫. বাইলাখালি, ৬. ভবানীপুর, ৭. চন্ডীপুর, ৮. চাঁদপাশা কিসমত, ৯. চাঁদপাশা, ১০. শ্রীমন্তরি, ১১. ডিগ্রিরচর, ১২. আইচার হাওলা, ১৩. ঘটকের চর, ১৪. দরিয়াবাদ, ১৫. ঢুমচর, ১৬. গাজীপুর, ১৭. কালিকাপুর, ১৮. কুলচর, ১৯. রাফিয়াদি।



৩। দেহেরগতি ইউনিয়ন: ১. আরজি বাহেরচর ঘোষকাঠি, ২. বাহিরচর ঘোষকাঠি, ৩. বাহিরচর ক্ষুদ্রকাঠি, ৪. চর সাধুকাঠি, ৫. দেহেরগতি, ৬. ইদিলকাঠি, ৭. খারিজজমা চর, ৮. রাকুদিয়া, ৯. রাহুতকাঠি, ১০. উত্তর দেহেরগতি, ১১. করমউল্লাকাঠি।



৪। কেদারপুর ইউনিয়ন: ১. ভূতেরদিয়া, ২. ছানি কেদারপুর, ৩. দক্ষিণ চরজাহাপুর, ৪. দক্ষিণ ভূতেরদিয়া, ৫. কেদারপুর, ৬. কিসমত ঠাকুর মালিক, ৭. পূর্ব ভূতেরদিয়া, ৮. পূর্ব কেদারপুর, ৯. পশ্চিম ভূতেরদিয়া।



৫। মাধবপাশা ইউনিয়ন: ১. বাদলা (শ্রীনগর), ২. ছাতিয়া, ৩. চন্দ্রপাড়া, ৪. গজালিয়া, ৫. গোয়ালদি মুশুরিয়া, ৬. হাদিবাশকাঠি, ৭. হিজলা, ৮. লাফাদি, ৯. মাধবপাশা, ১০. বারইখালি, ১১. বীরপাশা, ১২. রবীন্দ্রনগর, ১৩. ফুলতলা, ১৪. গোয়াল বত্তন, ১৫. মেঘিয়া, ১৬. মুশুরিয়া, ১৭. পাংশা, ১৮. পশ্চিম পাংশা, ১৯. প্রতাপপুর, ২০. পূর্ব রহমতপুর।



৬। রহমতপুর ইউনিয়ন: ১. দোয়ারিকা, ২. খানপুরা, ৩. ক্ষুদ্রকাঠি, ৪. কুমারিয়ার পিঠ, ৫. লামচর ক্ষুদ্রকাঠি, ৬. লোহালিয়া, ৭. মৈষাদি, ৮. মানিককাঠি, ৯. ওলানকাঠি, ১০. পশ্চিম রহমতপুর, ১১. রাজগুরু, ১২. বোয়ালিয়া, ১৩. রাজকর, ১৪. রামপট্টি, ১৫. সাদেকখান, ১৬. সিঙ্গেরকাঠি, ১৭. উত্তর রহমতপুর।


মুলাদী উপজেলা


মুলাদী পৌরসভার মহল্লাসমূহ: ১. চর গুদিঘাটা, ২. দক্ষিণ গলুইভাঙ্গা, ৩. মহিষগুদি, ৪. তেরচারা, ৫. বড় মাধব রায়ের চর, ৬. মুলাদী, ৭. ইকারখোলা, ৮. পশ্চিমচর পাতানিভাঙ্গা, ৯. চরডিক্রি।



১। বাটামারা ইউনিয়ন: ১. আলিমাবাদ, ২. বাটামারা, ৩. চর আলগী, ৪. চর সাহেবরামপুর, ৫. পূর্ব সেলিমপুর, ৬. পূর্ব তাইকা, ৭. রামেরচর, ৮. টুমচর।



২। চর কালেখান ইউনিয়ন: ১. চর কালেখান, ২. নয়াকান্দি, ৩. বড় কান্ডি, ৪. বারুকান্দি, ৫৫. দক্ষিণ গাছুয়া, ৬. জালালাবাদ লক্ষ্মীপুর, ৭. লক্ষ্মীপুর, ৮. নায়েব নাজির, ৯. কায়েতমারা, ১০. কোলচর, ১১. পশ্চিম ষোলঘর, ১২. পূর্ব বানীমর্দান, ১৩. ষোলঘর।



৩। গাছুয়া ইউনিয়ন: ১. চর বলরামপুর, ২. চর ধলেশ্বর, ৩. চর ডুমুরতলা, ৪. চর গাছুয়া, ৫. চর কোলানিয়া, ৬. ডুমুরতলা, ৭. গলোইভাঙ্গা, ৮. কৃষ্ণপুরা, ৯. মধ্য গাছুয়া, ১০. পক্ষ্যা, ১১. চর পত্তনিভাঙগা, ১২. পূর্ব হোসনাবাদ, ১৩. সৈদেরগাঁও, ১৪. শ্রীমতি, ১৫. উত্তর গাছুয়া।



৪। কাজীরচর ইউনিয়ন: ১. চর বাহাদুরপুর, ২. চর মিচুয়া, ৩. কমিশনারের চর, ৪. ডিক্রিরচর, ৫. কাজীরচর, ৬. কোলানিয়া, ৭. পেশকারকান্দি, ৮. রাঘুয়া কাজীর চর, ৯. বড়ইয়া নলিকান্দি, ১০. বাড়িয়া কাজীর চর, ১১. কেদারপুর কৃষ্ণ রুদ্র।



৫। মুলাদী ইউনিয়ন: ১. বড় পাতার চর, ২. ভাঙ্গারমোনা, ৩. চর লক্ষ্মীপুরা, ৪. খালাসীর চর, ৫. ছোট মাধবরায়ের চর, ৬. ছোট পাতার চর, ৭. দক্ষিণ চর ডাকাতিয়া, ৮. দক্ষিণ গলুইভাঙ্গা, ৯. দারিচর লক্ষীপুর, ১০. বাজাইসডুলি, ১১. কুতুবপুর, ১২. সাতানি ইচালি, ১৩. উত্তর চর ডাকাতিয়া, ১৫. উত্তর গলুইভাঙ্গা।



৬। নাজিরপুর ইউনিয়ন: ১. চিলমারি, ২. হোসনাবাদ (চর নাজিরপুর), ৩. নাজিরপুর, ৪. ঘোষের চর, ৫. জালালপুর, ৬. কাচির চর, ৭. কুড়ির চর মিয়ার চর. ৮. পশ্চিম বানীমর্দান, ৯. পূর্ব চর কুতুবপুর, ১০. পূর্বচর নলচিড়া, ১১. রামারপোল, ১২. সাহেবের চর।



৭। সফিপুর ইউনিয়ন: ১. বালিয়তলী, ২. বোয়ালিয়া, ৩. ব্রজমোহন, ৪. চর বাসুদেব চর, ৫. চর ভেদুরিয়া, ৬. চর মালিয়া, ৭. চর পদ্মা, ৮. ছোট লক্ষ্মীপুর, ৯. কাঁঠালতলী, ১০. খাইলা, ১১. লক্ষ্মীপুর, ১২. মাছুয়াখালি, ১৩. পশ্চিমচর ভেদুরিয়া, ১৪. পূর্বচর, ১৫. সফিপুর, ১৬. উত্তর চর চিথালিয়া, ১৭. উত্তরচর ডিক্রি, ১৮. উত্তর চর পদ্মা, ১৯. উত্তর পাতার চর।


৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুন্ঠন  ॥

মুলাদী প্রতিনিধি মেহেদী হাসানঃ
মুলাদী উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ গাছুয়া গ্রামের অবসর প্রাপ্ত সেনাবাহিনীর বাড়ী সহ দুইটি বাড়ীতে দূদর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। 
ঘটনার বিবরনে জানা যায় গাছুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ গাছুয়া গ্রামের মৃত রহমালী হাওলাদারের ছেলে অবসর প্রাপ্ত সেনাবাহিনী মৌলবী আনিচুর রহমানের বসত ঘরে রাত অনুমান ২.২০ মিনিটে ঘরের পূর্ব পাশের দরজা ভেঙ্গে মুখোশধারী ১৫/১৬ জন লোক ঘরটি ঘিরে রেখে ঘরের ভিতরে ২য় দরজা সাবল দিয়ে ভেঙ্গে মুখোশ ধার ৬জন ডাকাত ঘরে প্রবেশ করে মৌলভী আনিচুর রহমানের ছেলে সহ ঘরের সবাইকে বেধে ফেলে । তখন আনিচুর রহমান এর ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২২) আতœ রক্ষার জন্য ডাকা চিৎকার দিতে চাইলে ডাকাতরা দেলোয়ার কে হত্যার উদ্দেশ্য কুপিয়ে গুরতর আহত করে। এ সময় দেলোয়ারের ভাগিনা ইব্রাহীম (১৩) মামা দেলোয়ার কাছে এগিতে আসতে চেষ্ঠা করলে তাকেও পিটিয়ে আহত করে। এক পর্যায় ঘরের আলমিরা সুকেচ ভেঙ্গে ২ ভরি স্বর্নের জিনিস সহ নগদ ২৫ হাজার ও দুটি মোবাইল সেট নিয়ে যায়। একই সময় পাশ^বর্তী মৃত হাবিবুর রহমানের এর সিকদারের ছেলে আলহাজ¦ দলিল উদ্দিন সিকদার এর ঘরে একই ভাবে সাবল দিয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ৬/৭ জন ঘরে প্রবেশ ঘরে বাকিরা ঘরের চারদিগ ঘিরে রাখে আলহাজ¦ দলিল উদ্দিন সিকদার ও তার স্ত্রী হামিদা বেগমকে মুখোশধারী ডাকাতরা এলোপাতারী মারপিট করে দের ভরি স্বনের জিনিস সহ নগদ ১০ হাজার টাকা ডাকাতরা নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে সংবাদ পেয়ে বরিশাল জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশাসন আঃ রকিব,  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল আহসান ও মুলাদী থানা অফিসার ইনচার্জ জিয়াউল আহসান, পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত সাইদ আহম্মেদ তালুকদার ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছেন। ডাকাতির ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুুতি চলছে বলে জানা যায়।

॥ বিপর্যয় হচ্ছে হচ্ছে পরিবেশ ॥


মেহেদী হাসান, মুলাদী প্রতিনিধি|
মুলাদী পৌর সদরের লঞ্চঘাটে জনসাধারনের জণ্য নির্মিত ঘাটলা সংলগ্ন মেইন রাস্তার উপর দীর্ঘদীন যাবৎ পশু জবাই করে যাচ্ছে একটি অসাধু চক্র। তাদেরকে বারবার নিষেধ করা সত্বেও প্রশাসন ও জানাসাধারনকে বৃদ্ধ আঙ্গুল দেখিয়ে প্রতিনিয়ত পশু জবাই করে  যাচ্ছে চক্রটি। পশু জবায়ের নিয়ম কানুন থাকলেও তারা নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই না করে  যেখানে সেখানে পশু জবাই করে পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি সহ চলচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে, তাছাড়া রাস্তার উপরে পশু জবাইয়ের কারনে প্রতিদিন ঢাকা থেকে আসা লঞ্চের যাত্রীরাও পড়েন দূর্ভোগে, জনসাধারনের জন্য নির্মিত ঘাটটিও ব্যাবহারের অনুপোযোগী হয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েজন ব্যাক্তি জানান ফজরের নামাজ পড়ে আসার সময় প্রায়শই তাদের পশু জবাইয়ের কারনে বিব্রত বোধ হতে হয়। রাস্তার উপর পড়ে থাকা রক্ত মাংস খেতে বেওয়ারিশ কুকুরের মারামারি সহ হাটা চলায় তাদের সমস্যার সৃষ্টি হয়। রক্ত পঁচা গন্ধেও হাটা চলাকরাও কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাদেরকে কয়েকদফা নিষেধ করা হলেও তারা প্রভাবশালীর মত এটি মানছে না ও শুনছেও না।  এমতাবস্থায় বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার জন্য তারা অনুরোধ জানান।

MARI themes

Powered by Blogger.